পরেশ দেবনাথ, বিশেষ প্রতিনিধি : ধর্মীয় সম্প্রীতি, সামাজিক শান্তি ও সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে কুষ্টিয়ায় জেলা পর্যায়ে আন্তঃধর্মীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কুষ্টিয়া পিএফজির আয়োজনে, এফসিডিও-এর অর্থায়নে এবং দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের এমআইপিএস প্রকল্পের আওতায় ওই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার (২৪ আগস্ট-২৬) কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে মোঃ শফিকুল ইসলাম, সমন্বয়কারী, পিএফজি কুষ্টিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন, আব্দুল মান্নান বাদশা, পিস অ্যাম্বাসেডর, পিএফজি কুষ্টিয়া। ।
প্রধান অতিথি ছিলেন, মোঃ হারুন অর রশিদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কুষ্টিয়া সদর এবং বিশেষ অতিথি অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মোঃ সাঈদ হাসান, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা; মোঃ আব্দুল হালিম, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা; ফেরদৌস নাজনীন, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন, মোঃ খোরশেদ আলম, আঞ্চলিক সমন্বয়কারী, যশোর অঞ্চল; এস. এম. রাজু জবেদ, এরিয়া কোঅর্ডিনেটর, খুলনা ক্লাস্টার; মোঃ ইবরাহিম খলিল, সেক্রেটারি, খেলাফত মজলিশ; মোঃ শরিফুজ্জামান, খতিব, বড়িয়া জামে মসজিদ; রতন লাল মৈত্র; রতন পাল, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট; বিজলী রানি দেবনাথ; মামুনুর রশিদ, পিএফজি সদস্য; মোঃ রবিউল ইসলাম, সাংবাদিক; অরুণ বগচি বাপ্পি, যুগ্ম মহাসচিব; রাজিউদ্দিন শাহিন, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামি; মোঃ সাইদ হোসেন, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা, কুষ্টিয়া এবং মোঃ আব্দুল হালিম, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা।
সংলাপে বক্তারা বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা, ন্যায়বিচার ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা করা সম্ভব। স্থানীয় পর্যায়ে সর্বধর্মীয় পরিষদ গঠন ও নিয়মিত আন্তঃধর্মীয় সংলাপ আয়োজনের মাধ্যমে সংঘাত প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা যাবে। বক্তারা আরও বলেন, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত বিরোধ, সম্পত্তি-সংক্রান্ত সমস্যা, ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা, গুজব ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপপ্রচার সম্প্রীতি নষ্ট করে। তাই অন্যের অধিকার রক্ষা, ধর্মীয় বিষয়ে জবরদস্তি না করা এবং গুজব-উসকানির বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
মুখে সম্প্রীতির কথা বলার পাশাপাশি তা বাস্তবে প্রয়োগ করতে হবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং সংঘাতের সময় নীরব না থেকে শান্তিপূর্ণভাবে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান বক্তারা। প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ হারুন অর রশিদ বলেন, সৃষ্টিকর্তার অধিকার ও বান্দার অধিকার—উভয়ই রক্ষা করতে হবে। ধর্মের ক্ষেত্রে ভালো কথা বলা বা দাওয়াত দেওয়া যায়, কিন্তু কোনো ধরনের জবরদস্তি করা যাবে না। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অন্যের অধিকার রক্ষার মাধ্যমেই শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।