পরেশ দেবনাথ, বিশেষ প্রতিনিধি : ‘মাদকদ্রব্য ত্যাগ করি, কিশোর গ্যাং নির্মূল করি, সুস্থ-সবল জীবন গড়ি’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে যশোরের কেশবপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে ১ম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬। কেশবপুর থানা পুলিশের আয়োজনে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর-২৬) কেশবপুর পাবলিক ময়দানে ওই কাবাডি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও বিভিন্ন অপরাধ থেকে দূরে রাখা, তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা ও ইতিবাচক মানসিকতা তৈরি এবং পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়। এ ধরনের কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি প্রতিযোগিতা দেশের বিভিন্ন স্থানেও একই উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হচ্ছে।
প্রতিযোগিতায় কেশবপুর উপজেলার চারটি ইউনিয়নের খেলোয়াড়রা অংশগ্রহণ করেন। দিনব্যাপী প্রতিযোগিতাকে ঘিরে খেলোয়াড় ও ক্রীড়াপ্রেমী দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলায় ৭ নম্বর ইউনিয়ন চ্যাম্পিয়ন এবং ৩ নম্বর ইউনিয়ন রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মনিরামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ইমদাদুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ৩ নম্বর মজিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ হুমায়ুন কবির পলাশ।
আরও উপস্থিত ছিলেন, কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম, তদন্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম শহীদ, কেশবপুর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব ইমরান হাসান কারী, কেশবপুর উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ থানার পুলিশ কর্মকর্তা, ক্রীড়া সংগঠক, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ক্রীড়ামোদী বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
আয়োজকরা বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে মাঠমুখী করার কোনো বিকল্প নেই। খেলাধুলা তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতার চেতনা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বক্তারা আরও বলেন, ‘মাদক নয়, খেলাধুলার মাঠই হোক তরুণদের ঠিকানা’ এই বার্তা সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিতে হবে। পুলিশ ও জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগে নিয়মিত এমন ক্রীড়া আয়োজন অব্যাহত থাকলে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা সম্ভব হবে। পুলিশের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত এ কাবাডি প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে কেশবপুরে মাদকবিরোধী সামাজিক সচেতনতা এবং খেলাধুলার মাধ্যমে সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।