পরেশ দেবনাথ, বিশেষ প্রতিনিধি ; কেশবপুর প্রেসক্লাব দখল ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগে অনেকে আহত হলেও হাসপাতালে আছেন ৫ জন। কেশবপুর প্রেসক্লাবে হামলা চালিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে ক্লাব দখলের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং কেশবপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ওয়াজেদ আলী খান ডাবলুসহ তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় লোকসমাজ পত্রিকার কেশবপুর প্রতিনিধি জয়দেব চক্রবর্তী, দৈনিক কল্যাণের আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ ও সময়ের খবরের জাহিদ হাসানসহ কয়েকজন পেশাদার সাংবাদিক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ওয়াজেদ আলী খান ডাবলু-এর ফেজবুক থেকে জানা যায়, এ ঘটনায় মাহাবুর রহমান সবুজের হাত ভেঙ্গে গেছে এবং সাদেক হোসেন-সহ ৫ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে সবুজ ও সাদেক কে যশোর সদর হাসপাতালে রেফার্ট করা হয়েছে।
জানা গেছে, রোববার (২০ সেপ্টেম্বর২৬) সকালে ওয়াজেদ আলী খান ডাবলুর নেতৃত্বে একদল বহিরাগত কেশবপুর প্রেসক্লাবে প্রবেশ করে। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য প্রেসক্লাবের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক কাজে ব্যস্ত থাকা সাংবাদিকদের ওপর এ সময় হামলা চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, হামলার পর অভিযুক্তরা মূল প্রেসক্লাবের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট একটি স্বঘোষিত আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেন। ওই কমিটিতে কেশবপুর প্রেসক্লাবের সদস্য ও দৈনিক দিনকালের প্রতিনিধি মাহাবুর রহমানকে আহ্বায়ক, হারুন-অর রশিদকে সদস্য সচিব এবং ওয়াজেদ আলী খান ডাবলুকে সদস্য করা হয়েছে।
আহত সাংবাদিক জাহিদ হাসান বলেন, হঠাৎ করে বহিরাগতরা এসে আমাদের ওপর হামলা ও মারধর করে। হামলায় জয়দেব চক্রবর্তী ও আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ গুরুতর আহত হলে তাদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।” কেশবপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আশরাফ-উজ- জামান খান অভিযোগ করে বলেন, “আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বহিরাগতরা এসে মব তৈরি করে জোরপূর্বক প্রেসক্লাব দখলের চেষ্টা চালায়। এ সময় আমাদের কয়েকজনকে ক্লাবের ভেতরে আটকে রাখা হয়।” এ বিষয়ে কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, “সাংবাদিকদের মধ্যে বিরোধ চলছে। খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। উভয় পক্ষকে থানায় এসে বসার জন্য বলা হয়েছে। বিষয়টি আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কেশবপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ওয়াজেদ আলী খান ডাবলু বলেন, “তাদের ওপর হামলা চালানো হয়নি। তারা অবৈধভাবে প্রেসক্লাব দখলে রেখেছিল। সেটি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।” তিনি আরও দাবি করেন, “তাদের দুই সদস্য মাহাবুর রহমান সবুজ ও সাদেক হোসেনকে মারধর করা হয়েছে এবং তারা যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। উল্লেখিত ৫১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটিতে অজানা কয়েক জনের নাম দেওয়া বলে সূত্রে প্রকাশ।