November 6, 2026, 11:28 am
শিরোনাম:
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নিরলস পরিশ্রমে সেবার মান বেড়েছে নির্বাচনে ভরাডুবির পর হেগসেথ-রুবিওর পদত্যাগের গুঞ্জন নাকচ করল হোয়াইট হাউস বিশ্ববাজারে আবার বাড়ল তেলের দাম সংকটে ১১ দলের ঐক্য এনসিপি কি জামায়াত জোট ছাড়তে চায় শীতের আমেজ, তাপমাত্রা নিয়ে যে পূর্বাভাস দিল আবহাওয়া অফিস চোখের ভেতর পানি না পৌঁছালে অজু শুদ্ধ হবে কি ? আকুর দায় শোধের পর ৩৫ বিলিয়ন ডলারের নিচে নামলো রিজার্ভ শিশুদেরই গড়তে হবে শক্তিশালী বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী কেশবপুরে প্রখ্যাত চলচ্চিত্র অভিনেতা ধীরাজ ভট্টাচার্যের জন্মবার্ষিকী উদযাপন আশাশুনিতে রক্তকরবী মহিলা উন্নয়ন সংস্থার বৃক্ষ রোপণ ও বিতরণ

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নিরলস পরিশ্রমে সেবার মান বেড়েছে

Reporter Name

সাগর কুমার বাড়ই, তেরখাদা প্রতিনিধি : বিপুল জনবল সংকট, জরাজীর্ণ অবকাঠামো ও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও খুলনার তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আগের তুলনায় স্বাস্থ্যসেবার মান ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম যোগদানের পর থেকেই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সেবার মানোন্নয়ন ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তাঁর উদ্যোগ ও তদারকিতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ, চিকিৎসাসেবা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা, টিকাদান কার্যক্রমে গতিশীলতা আসছে।

জানা গেছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর ডাঃ মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা, আন্তঃবিভাগ ও বহির্বিভাগের কার্যক্রম যথানিয়মে পরিচালনা, ইপিআই কার্যক্রম জোরদার, মাঠকর্মীদের কর্মতৎপরতা বৃদ্ধি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবেশ সুন্দর ও মনোরম করতে বিভিন্ন স্থানে ফুলের চারা রোপণ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সহকারী ও সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শকসহ মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের অগ্রগতি সরেজমিন পরিদর্শন এবং ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তদারকি করা করছেন। স্বাস্থ্যসেবার সমন্বয় ও গতিশীলতা বাড়াতে চালু করা করেছেন অভ্যন্তরীণ টেলিফোন যোগাযোগ ব্যবস্থা। টিকাদান ও বিভিন্ন জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির কার্যক্রম নিয়মিত মনিটরিং করছেন। মাঠ পর্যায়ে ইপিআই কার্যক্রমে গতি ফিরেছে।

প্রতি মাসের প্রথম মঙ্গলবার ইপিআই-সংক্রান্ত সমন্বয় সভা এবং তৃতীয় মঙ্গলবার মাসিক সভার মাধ্যমে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা হচ্ছে। এ ছাড়া ইউজার ফি আদায় আগের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে বলে জানা গেছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা মাদকসেবী ও বখাটেদের উৎপাত বন্ধ এবং ওষুধ চুরির ঘটনা প্রতিরোধেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন তিনি। ফলে হাসপাতালের পরিবেশ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে।

তবে ইতিবাচক পরিবর্তনের পাশাপাশি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে রয়েছে প্রকট জনবল ও অবকাঠামোগত সংকট। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দেড় লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার জন্য প্রয়োজনীয় ৩৬ জন চিকিৎসকের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৬ জন। ছয়টি ইউনিয়নে মাঠপর্যায়ে ৩৬ জন কর্মীর প্রয়োজন হলেও রয়েছেন মাত্র ১৩ জন। এত সীমিত জনবল নিয়েই তাঁরা ইপিআই ও বিভিন্ন জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করছেন। স্বাস্থ্য সহকারী ও সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শকরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন। এক একজনের দ্বিগুন পরিশ্রম করছেন।

এদিকে চিকিৎসক সংকটের পাশাপাশি নার্সের স্বল্পতাও সুষ্ঠু স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি একযোগে পাঁচজন নার্স বদলি হওয়ায় সংকট আরও বেড়েছে।
। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অধিকাংশ ভবনই জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ। বর্তমানে ১৯ শয্যাবিশিষ্ট একটি ভবন সচল রয়েছে। এ ছাড়া একটি চিকিৎসক কোয়ার্টার অস্থায়ী অফিস হিসেবে এবং তৃতীয় শ্রেণির একটি কোয়ার্টার ওষুধের গুদাম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বাকি ভবনগুলো পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম এর নেতৃত্বে রোগীর চাপ সামাল দিতে হচ্ছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির চিকিৎসকদের। বহির্বিভাগে এর আগে ১৫০ থেকে ২০০ রোগী হতো কিন্তু বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন। সেবার মান বৃদ্ধি পাওয়ায় রোগীরা আবারও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মুখী হচ্ছে।
সূত্র জানায়, ভর্তিকৃত রোগীদের প্রয়োজনীয় অধিকাংশ ওষুধ হাসপাতাল থেকেই সরবরাহ করা হচ্ছে। তাঁদের উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকরা নিয়মিত সকাল দুপুর সন্ধ্যায় ওয়ার্ড পরিদর্শন করছেন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিচ্ছন্নতা কর্মীর সংকট থাকলেও হাসপাতালের অভ্যান্তরে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। ইনডোরের শৌচাগারগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে জুতা-স্যান্ডেল  নির্ধারিত স্থানে রেখে ভেতরে প্রবেশের নিয়ম চালু করা হয়েছে। এদিকে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবেও ব্যাহত হচ্ছে উন্নত চিকিৎসাসেবা। দীর্ঘদিন ধরে এক্স-রে মেশিন না থাকায় রোগীদের এ সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিনটিও দীর্ঘদিন ধরে অচল। অপারেশন থিয়েটার থাকলেও সার্জন ও অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক না থাকায় অস্ত্রোপচার সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তেরখাদাবাসী। অন্যদিকে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চারপাশে পূর্ণাঙ্গ সীমানা প্রাচীর না থাকায় সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

এতসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মুজাহিদুল ইসলামের প্রশাসনিক দক্ষতা, আন্তরিকতা ও নিয়মিত তদারকির ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।  স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও মাঠকর্মী নিয়োগের পাশাপাশি অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধান করা গেলে তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সেবার মান আরও উন্নত হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমি তেরখাদায় যোগদানের পর থেকেই নানা সীমাবদ্ধতা ও ভঙ্গুর অবকাঠামোর মধ্যেও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান বাড়ানোর জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। মাঠকর্মী সংকট থাকলেও মাঠপর্যায়ের কর্মীরা আন্তরিকতার সঙ্গে যথানিয়মে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁদের শতভাগ কর্মতৎপরতা নিশ্চিত করতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “পরিচ্ছন্নতা কর্মীর চরম সংকট থাকলেও হাসপাতালের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রতিদিন সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন