September 19, 2026, 12:44 am
শিরোনাম:
যশোর মুক্তেশ্বরী সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদের মাসিক সাহিত্য সভা ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা কেশবপুরে বিএনপি নেতা মরহুম আবু’র রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল আশ্বিনের শুরুতেই আন্দামানে লঘুচাপের পূর্বাভাস, ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা খুলনায় পরিবেশগত মানবাধিকার বিষয়ে দু’দিন ব্যাপী সাংবাদিক প্রশিক্ষন কর্মশালা ডেঙ্গু প্রতিরোধে যশোরের নীলগঞ্জে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য সাতক্ষীরায় আফজাল করিমের জানাজায় এমপি-সহ বিশিষ্টজনের উপস্থিতি ফিক্সিংকাণ্ডে বিপিএলের আরও দুই কর্মকর্তা নিষিদ্ধ দেশে মানহীন ওষুধ উৎপাদন বন্ধে নজরদারি বাড়ছে রাজস্ব আয় কম, ঋণের নতুন উৎস খুঁজছে সরকার নাচের অভিনব পরিবেশনায় ভিন্নরূপে তামান্না ভাটিয়া

৩১ আগস্ট সেই দিনটি আজ স্বাধীন হয় মালয়েশিয়া

Reporter Name

মালয়েশিয়ার জাতীয় দিবস। দেশটির মানুষ দিনটি ‘হারি মেরদেকা’ নামে উদযাপন করে। ‘মেরদেকা’ শব্দের অর্থ স্বাধীনতা। ১৯৫৭ সালের ৩১ আগস্ট ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে মালয়া স্বাধীনতা অর্জন করে। সেই দিন কুয়ালালামপুরের মেরদেকা স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী টুংকু আবদুল রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তার কণ্ঠে উচ্চারিত ‘মেরদেকা’ ধ্বনি মালয়েশিয়ার ইতিহাসে স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে আছে।

মালয়েশিয়া কয়েক শতাব্দী ধরে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল বিদেশি শক্তির প্রভাব ও শাসনের অধীনে ছিল। পর্তুগিজ ও ডাচদের পর ব্রিটিশরা মালয় উপদ্বীপে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানি দখলদারিও দেশটির মানুষের জীবনে গভীর ক্ষত তৈরি করে। যুদ্ধের পর ব্রিটিশ শাসন আবার প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন মালয় জনগণের মধ্যে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। তবে বর্তমান মালয়েশিয়ার জন্ম ১৯৫৭ সালের স্বাধীনতার মধ্যেই সম্পূর্ণ হয়নি। ১৯৬৩ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর মালয়া, সাবাহ, সারাওয়াক ও সিঙ্গাপুরকে নিয়ে মালয়েশিয়া ফেডারেশন গঠিত হয়। পরে ১৯৬৫ সালে সিঙ্গাপুর মালয়েশিয়া থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। আজকের মালয়েশিয়া তাই একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিবর্তনের ফল।

মালয়েশিয়ার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য তার বহুত্ববাদ। এখানে মালয়, চীনা, ভারতীয়সহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করে। ইসলাম রাষ্ট্রীয় ধর্ম হলেও অন্যান্য ধর্ম পালনের সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। বিভিন্ন ভাষা, ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষ একই রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে বসবাস করে। এই বৈচিত্র্য কখনো কখনো রাজনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তারপরও জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সবাইকে একত্রিত রাখার চেষ্টা দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।

স্বাধীনতার পর মালয়েশিয়া অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে দ্রুত এগিয়েছে। কৃষিনির্ভর অর্থনীতি থেকে দেশটি শিল্প ও আধুনিক সেবা খাতের দিকে এগিয়ে যায়। রাবার ও টিনের পাশাপাশি পাম অয়েল গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি পণ্যে পরিণত হয়। পরে ইলেকট্রনিকস, প্রযুক্তি, পর্যটন ও উৎপাদন খাত অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা নেয়। কুয়ালালামপুর আজ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোর একটি। মালয়েশিয়া আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যম আয়ের অর্থনীতি। সামনে দেশটির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জও রয়েছে। অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো, বহুজাতিক সমাজে সম্প্রীতি বজায় রাখা, তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

একটি দেশের স্বাধীনতা শুধু বিদেশি শাসনের অবসান নয়। স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ মানুষের মর্যাদা নিশ্চিত করা। নাগরিকের অধিকার রক্ষা ও অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। মালয়েশিয়ার স্বাধীনতা দিবস তাই অতীতের গৌরব স্মরণের পাশাপাশি ভবিষ্যতের দায়িত্বের কথাও মনে করিয়ে দেয়।