দেশে সারের কোনো বাস্তব সংকট নেই দাবি করে সারের ঘাটতিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ‘কৃত্রিম’ আখ্যা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীরা যেসব জেলায় জয়লাভ করেছেন, কেবল সেসব জেলাতেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দলের কর্মীদের দিয়ে কৃত্রিম সংকট ও হট্টগোল তৈরি করা হচ্ছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রংপুরের পীরগঞ্জে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মীর শাহে আলম বলেন, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, রংপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, মেহেরপুর ও নড়াইলে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে। জামায়াতের নাম সরাসরি না নিয়ে তিনি বলেন, ‘বেহেশতের টিকিট’ বিক্রি করে যারা নির্বাচিত হয়েছেন, ঠিক সেই জেলাগুলোতেই সংকট দেখানো হয়েছে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বিভাগের কোনো জেলায় সারের সংকট হয়নি। বগুড়া, রাজশাহী, পাবনা, নাটোর, কুমিল্লা, সিলেট ও বরিশালেও হয়নি। ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগেও সংকট নেই। মাত্র এই দশ থেকে এগারোটি জেলায় সারের সংকট। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি এটা রাজনৈতিক। জনগণের সরকারকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য তাদের দলের রাজনৈতিক কর্মী দ্বারা হইচই করিয়ে এই কৃত্রিম সারের সংকট তৈরি করা হয়েছে।’
তিনি জানান, বিদ্যমান ডিলারদের বাইরে নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে আরও নিয়োগ হবে। তিনটি জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে তিনি ‘ক্লোজ মনিটরিং’ করার কথা দেন। ডিলাররা সার মজুত রেখেছেন কি না বা কৃষকদের দিচ্ছেন কি না, প্রয়োজনে নিজে গুদাম পরিদর্শন করে তা দেখবেন বলেও জানান।
সরকারের শুরুর দিকের তেল-গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের শুরুর দিকে তেল ও গ্যাস নিয়ে সমস্যা হয়েছে। এটা সরকার কিন্তু অস্বীকার করেনি। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধসহ নানা কারণে বাংলাদেশও এই সমস্যায় পড়েছিল এ জন্য প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে মীর শাহে আলম বলেন, বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তেলের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে কারণ তেল ভারতে পাচার হয়ে যেত। বিশ্বে তেলের মূল্য কমে গেলে আমরাও সমন্বয় করে তেলের মূল্য আবার কমিয়ে দেব। আমরা চেষ্টা করছি। আমাদের একটু সময় দিতে হবে। এটা আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি।
অন্তর্বর্তী সরকারকে উদ্দেশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটা সরকারের ছয় মাসের মেয়াদে একটা ভঙ্গুর অর্থনীতি, একটা অনির্বাচিত সরকারের হাত থেকে ক্ষমতা নেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তো দায় পারই করেছে, সময় পার করেছে। তারা দেশের জন্য কোনো কাজ করেনি।
এগারো দলের লং মার্চ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কয়দিন আগে এগারো দলীয় যে ফুটবল টিম বা ক্রিকেট টিম যেটাই বলি, তারা রংপুরে এসে লং মার্চ করে গেল, সেখান থেকে কী প্রাপ্তি হলো? তারা বলে তেলের ক্রাইসিস। তেলের ক্রাইসিস হলে আপনাদের বহরে যদি দুই হাজার গাড়ি থাকে, এই গাড়ি তেল কোথায় পেল? আপনারা তো তেল দিয়ে গাড়ি চালিয়েই লং মার্চে এসেছেন।’
তিনি বলেন, ‘লং মার্চ করে যদি তেল-গ্যাসের সমাধান হতো, সবার আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত সবচেয়ে বড় লং মার্চ আমরাই করতাম। লং মার্চ করে কখনো দেশের মানুষের সমস্যার সমাধান হবে না।’
বিরোধী দলের অবস্থানকে দ্বিমুখী আখ্যা দিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, ‘জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের নেতা বলেছেন, তেল-গ্যাসসহ বিদ্যুতের এই সমস্যা বিএনপি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে, তারা বিএনপিকে সময় দিতে চান। অথচ বাইরে গিয়ে পল্টন ময়দানে বক্তব্যে বলছেন, তেল দে, গ্যাস দে, নইলে গদি ছেড়ে দে। একদফা দাবি।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমান বিএনপির সরকার জনগণের সরকার, নির্বাচিত সরকার। এ দেশের মানুষ আমাদের পাঁচ বছরের জন্য ম্যান্ডেট দিয়েছে। আপনাদেরও অপেক্ষা করতে হবে। এরপর সমালোচনা করবেন, আমাদের কোথায় ব্যর্থতা, কোথায় সফলতা। যেখানে ব্যর্থতা, সেখানে কেন ব্যর্থ হয়েছি, জনগণের কাছে জবাব দিয়ে যাব। আর যেখানে সফলতা, সফলতার গল্প বলে আপনাদের কাছ থেকে আমরা সমর্থন নেব।’
বিরোধী দলের আন্দোলনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বিএনপি সরকার জনগণের জন্য যেসব কর্মসূচি মাঠে নিয়ে এসেছে, সেগুলোকে বাধাগ্রস্ত করা এবং দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা। বাইরের কোনো দেশের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য তারা এসব কর্মসূচি নিচ্ছে এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।’
এ সময় সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য রেজেকা সুলতানা ফেন্সী, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী ডন, জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক ইসরাত সুলতানাসহ বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।