September 19, 2026, 4:43 am
শিরোনাম:
ডুমুরিয়ার খর্নিয়ায় গণসংযোগ ও কুশল বিনিময় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী-শেখ শাহিনুর প্রতিবেশী ভারত-বাংলাদেশ সুসম্পর্কের জন্য যা করণীয় তপু বর্মণকে ছাড়াই আসিয়ান কাপের দল চূড়ান্ত বাংলাদেশের স্বার্থরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে ভারত, ঢাকার ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা নিয়ে জয়সওয়াল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে ফের তারেক রহমানের দিল্লি সফর আয়োজনের চেষ্টা প্রেম করে বিয়ে বিষপানে স্বামীর মৃত্যু হাসপাতালে ভর্তি স্ত্রী অ্যাটর্নি অফিসের কেউ অর্থ পাচারে জড়িত থাকলে ব্যবস্থা যশোর মুক্তেশ্বরী সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদের মাসিক সাহিত্য সভা ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা কেশবপুরে বিএনপি নেতা মরহুম আবু’র রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল আশ্বিনের শুরুতেই আন্দামানে লঘুচাপের পূর্বাভাস, ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা

আদানির সঙ্গে চুক্তি নিয়ে আইনি মতামত চায় বিদ্যুৎ বিভাগ

Reporter Name

আদানি পাওয়ারের ঝাড়খন্ডভিত্তিক কোম্পানি মূল কোম্পানির সঙ্গে একীভূত হয়েছে। এদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে করা বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি ও শত শত কোটি ডলারের পাওনা নিয়ে বিরোধ চলছে। এ অবস্থায় আদানির দুই কোম্পানির একীভূতকরণের পর বাংলাদেশের সঙ্গে করা চুক্তির ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে আইনি মতামত চেয়েছে সরকার। চলমান সালিশি ও আদালতের মামলার মধ্যে চুক্তিতে কোনো পরিবর্তন আনা হলে তার আইনি প্রভাব কী হতে পারে, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। সম্প্রতি বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে আইন ও বিচার বিভাগের এই মতামত চাওয়া হয়েছে।

আদানি পাওয়ার (ঝাড়খন্ড) লিমিটেড (এপিজেএল) আদানি পাওয়ার লিমিটেড (এপিএল)-এর সঙ্গে একীভূত হয়েছে। ভারতের ন্যাশনাল কোম্পানি ল ট্রাইব্যুনালের (এনসিএলটি) আহমেদাবাদ বেঞ্চ এপিজেএলকে এপিএলের সঙ্গে একীভূত করার অনুমোদন দিয়েছে। পিডিবি ও এপিজেএলের মধ্যে ২০১৭ সালের ৫ নভেম্বর বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি (পিপিএ) সই হয়। এ চুক্তির আওতায় ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। পরে পিডিবি, এপিজেএল ও এপিএল-এর মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তিও হয়।

এখন কোম্পানি একীভূত হওয়ার পর বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির পক্ষ হিসেবে এপিএল কীভাবে যুক্ত হবে, বিদ্যমান চুক্তি বহাল থাকবে কিনা এবং নতুন করে কোনো সংশোধনীর প্রয়োজন হবে কিনা এসব প্রশ্ন সামনে এসেছে। এ বিষয়ে আইনগত অবস্থান স্পষ্ট করতে চায় বিদ্যুৎ বিভাগ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পিডিবির সঙ্গে আদানি পাওয়ারের আর্থিক বিরোধ। আদানি পাওয়ারের দাবি, ৩১ জুলাই পর্যন্ত তাদের পাওনা ৭১১ দশমিক ৭২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৮ হাজার ৭০০ কোটি টাকার কাছাকাছি। বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ ও বিভিন্ন কর্তনের হিসাব নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।

বিরোধটি এরই মধ্যে সিঙ্গাপুর ইন্টারন্যাশনাল আরবিট্রেশন সেন্টারে (সিয়াক) গড়িয়েছে। পাশাপাশি আদানির বিদ্যুৎচুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের হাইকোর্টেও দুটি রিট বিচারাধীন। এর একটি ২০২৪ সালে এবং অন্যটি ২০২৫ সালে করা। কোম্পানি একীভূত হওয়ার পর চলমান সালিশি কার্যক্রম ও আদালতের মামলায় কোনো পরিবর্তন হবে কিনা, কিংবা নতুন কোম্পানি পুরোনো কোম্পানির সব দায় ও অধিকার বহন করবে কিনা এ বিষয়টিও সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের চিঠিতে জানতে চাওয়া হয়েছে, চলমান মামলা ও সালিশি প্রক্রিয়ার মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি সংশোধন করা আইনগতভাবে কতটা নিরাপদ। সংশোধন করা হলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের স্বার্থ বা চলমান বিরোধ নিষ্পত্তির ওপর এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কিনা, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। পিডিবির চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বলেন, আদানি ঝাড়খণ্ড পাওয়ার লিমিটেডকে আদানি পাওয়ার লিমিটেডের সঙ্গে একীভূত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত নেওয়া হচ্ছে।

আদানির সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ চুক্তি শুরু থেকে আলোচনার কেন্দ্রে। চুক্তির মূল্য, বিদ্যুৎ বিল, কয়লার দাম এবং সরবরাহের বিভিন্ন শর্ত নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। এবার কোম্পানি একীভূত হওয়ার কারণে সেই চুক্তির আইনি ভিত্তি ও সরকারের দায়-দায়িত্ব নতুন করে পর্যালোচনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, কোম্পানি একীভূত হওয়া ভারতের আইনি প্রক্রিয়ার বিষয় হলেও বাংলাদেশের সঙ্গে করা চুক্তির ক্ষেত্রে এর প্রভাব আলাদা ভাবে বিবেচনা করতে হবে। বিশেষ করে বিপুল অঙ্কের পাওনা দাবি, চলমান সালিশি এবং আদালতের মামলার বিষয়গুলো নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত যেকোনো চুক্তিগত সিদ্ধান্ত নিতে হবে সতর্কতার সঙ্গে।