September 17, 2026, 9:07 pm
শিরোনাম:
কেশবপুর ১২২ জন ডেঙ্গু রোগ আক্রান্ত নেই মশা নিধনের কার্যক্রম সাগরদাঁড়িতে আনসার-ভিডিপির স্বেচ্ছাশ্রমে মশা নিধন কেশবপুরে গলায় ফাঁস দিয়ে এক মহিলার আত্মহত্যা দিঘলিয়ায় স্কুল বন্ধ নয়, কুকুরের ভয়ে সিঁড়ির গেটে তালা দিয়ে উপরে চলছে ক্লাস মথুরাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হলেন মো. রনি ইসলাম ডুমুরিয়ায় ভ্রাম্যমান আদালতে এক লক্ষ আট হাজার টাকা জরিমানা আদায় জবি ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ৩ শিক্ষার্থী সাংগঠনিক কিংবা রাজনৈতিক মাঠ পর্যায়ে গুছিয়ে উঠতে পারছে না বিএনপি ভয়ভীতি দেখিয়ে পদত্যাগ, দুই বছরেও স্বপদে ফিরতে পারেননি-অধ্যক্ষ অদ্রীস আনিসুল হকের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিচ্ছে দুদক

সাংগঠনিক কিংবা রাজনৈতিক মাঠ পর্যায়ে গুছিয়ে উঠতে পারছে না বিএনপি

Reporter Name

কোথাও সাংগঠনিক কিংবা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নেই বিএনপি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দলীয় কার্যক্রমে এখন আরও ভাটা চলছে। সরকার গঠনের পর রাষ্ট্র বিনির্মাণে ব্যস্ত সময় পার করছেন দলের নেতারা। অন্যদিকে সাংগঠনিক কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম চলছে। এতে দলের মাঠ পর্যায়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছেন নেতাকর্মীরা। সরকার পরিচালনায় এগিয়ে থাকলেও দুর্বল হয়ে পড়ছে দলের সাংগঠনিক কাঠামো।

বিএনপি নেতারা জানান, সারাদেশে প্রায় প্রতিটি জেলা, মহানগর, উপজেলা, পৌর থেকে শুরু করে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ। কোথাও তিন বছর, কোথাও পাঁচ বছর, আবার কোথাও এক যুগেরও বেশি একই কমিটি বহাল। দলের মূল চালিকাশক্তি বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের মেয়াদও শেষ হয়েছে অনেক আগে। নতুন কমিটি গঠনের আলোচনা থাকলেও দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখছেন না নেতাকর্মীরা। ফলে পদপ্রত্যাশী নেতাদের অপেক্ষার প্রহর যেন শেষ হচ্ছে না।

তারা বলছেন, এসব কমিটি পুনর্গঠনের কাজ শুরু করতে পারলে এক ধরনের নেতৃত্ব প্রতিযোগিতা যেমন শুরু হবে, তেমনি সাংগঠনিক কার্যক্রমেও গতিশীলতা আসবে। আবার বিভিন্ন ইস্যুভিত্তিক কর্মসূচি ঘোষিত হলে নেতাকর্মীরাও সক্রিয় হতে পারতেন। প্রতিবার দলকে চাঙ্গা করার উদ্যোগের কথা বলা হলেও বাস্তবভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

তবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ সমকালকে বলেন, একটি দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম রুটিন ওয়ার্ক। নির্বাচন আর সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে সেই স্বাভাবিক রুটিনে কিছুটা ছেদ পড়েছে। কারণ, বিএনপিকে অনেক জঞ্জাল নিয়ে সরকারে আসতে হয়েছে। দেশকে একটি সঠিক রোডম্যাপে তুলে আনতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হচ্ছে। এরপরও শিগগির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নতুন কমিটি আসবে। পুনর্গঠনের কার্যক্রম চলছে।

দলের কয়েকজন নেতা অভিযোগ করে বলেন, সরকার আর দল একাকার হয়ে পড়েছে। দলের প্রতিটি স্তর এখন প্রায় নিষ্ক্রিয়। নেতা পর্যায়ের সবাই আছেন নিজেদের আখের গোছাতে। বেশির ভাগ নেতা এখন পড়ে থাকেন ঢাকায়। সরকারি কাজ বাগিয়ে নিতে তারা থাকেন লবিং-তদবিরে। এতে দলের পুরো সাংগঠনিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সারাদেশে বিএনপির ৮২টি সাংগঠনিক ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে ৪৯টি আহ্বায়ক কমিটি এবং ৩১টিতে রয়েছে পূর্ণাঙ্গ কমিটি। আবার এসব কমিটির মধ্যে মেয়াদ রয়েছে মাত্র আট জেলা ও মহানগর কমিটির। ৭২ কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগে। কমিটি স্থগিত রয়েছে শেরপুর জেলা কমিটির। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে অনেক আগে।

দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতিটি জেলা ও মহানগর কমিটির মেয়াদ দুই বছর। মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে কাউন্সিলে নতুন কমিটি গঠন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এরমধ্যে ব্যর্থ হলে যুক্তিসংগত কারণ দেখিয়ে আরও তিন মাস সময় নিতে পারবে। এই সময়েও কমিটি গঠনে ব্যর্থ হলে পূর্ববর্তী কমিটি বিলুপ্ত বলে গণ্য হবে। এরপর কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি গঠনের শর্তে তিন মাসের জন্য আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে দেবে কেন্দ্র। যদি আহ্বায়ক কমিটিও ব্যর্থ হয়, সেক্ষেত্রে কেন্দ্রের কমিটি গঠন করে দেওয়ার নিয়ম রয়েছে দলের গঠনতন্ত্রে। কিন্তু এসব নিয়মের কোনো তোয়াক্কা নেই কমিটি গঠনে। এতে সংগঠনের কার্যক্রমে কার্যত স্থবিরতা নেমে এসেছে এবং নতুন নেতৃত্ব তৈরির পথও সংকুচিত হয়ে পড়েছে বলে মনে করেন দলটির নেতাকর্মীরা। অনেকে মনে করছেন, পুরোনো কমিটি দিয়ে আর সংগঠন গতিশীল রাখা সম্ভব নয়।

মেয়াদোত্তীর্ণ অঙ্গ সংগঠনে চলছে স্থবিরতা বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী ১১টি সংগঠনের মধ্যে সবকটিই মেয়াদোত্তীর্ণ। জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, কৃষক দল, তাঁতী দল, মৎস্যজীবী দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, জাসাস ও ওলামা দল এই ৯টি হলো বিএনপির অঙ্গসংগঠন। ছাত্রদল ও শ্রমিক দল বিএনপির সহযোগী সংগঠন। এসব সংগঠনের গঠনতন্ত্রে প্রতি দুই বছর কিংবা কোনো কোনো সংগঠনের তিন বছর পর নতুন কমিটি গঠনের বিধান থাকলেও দীর্ঘদিন তা বাস্তবায়ন হয়নি। এতে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নেতৃত্বের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীদের মধ্যেও হতাশা বাড়ছে।

তৃণমূলের নেতাকর্মীদের দাবি, অঙ্গসংগঠনগুলোকে সক্রিয় করতে দ্রুত মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি দেওয়া প্রয়োজন। সম্মেলনের মাধ্যমে যোগ্য, ত্যাগী ও সক্রিয় নেতাদের নেতৃত্বে আনার কথাও বলেছেন কেউ কেউ। তাদের মতে, ক্ষমতাসীন দলের জন্য সাংগঠনিক শক্তি ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিরোধী দল কিংবা ক্ষমতার বাইরে থাকাকালে আন্দোলন ও কর্মসূচির মাধ্যমে নেতাকর্মীদের সক্রিয় রাখা যায়। ক্ষমতায় থাকার সময় সংগঠনের নিয়মিত কর্মকাণ্ড চালু না থাকলে নেতাকর্মীদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হতে পারে।

বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বলছেন, অঙ্গসংগঠনগুলোর নতুন কমিটি গঠনের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। সম্প্রতি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করে অনানুষ্ঠানিকভাবে তাদের বিদায়ও দিয়েছেন। সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকও নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুকে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়ে সংগঠন থেকে বিদায় নেন। এতে নতুন করে কমিটি পুনর্গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হয়। ফলে সম্ভাব্য পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে নেতৃত্বে আসার আকাঙ্ক্ষা প্রবল হয়। তবে অদৃশ্য কারণে ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠন থমকে রয়েছে।

২০২৪ সালের মার্চে রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সভাপতি ও নাছির উদ্দিন নাছিরকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে ফেব্রুয়ারিতে। ফলে সংগঠনটি পুনর্গঠনের দাবি উঠেছে অনেক আগেই। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বলছেন, সেই পুরোনো সিন্ডিকেটের তৎপরতায় নতুন কমিটি গঠন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের পছন্দের প্রার্থী এগিয়ে না থাকবেন কিংবা তালিকায় না আসবে ততক্ষণ কমিটি গঠনে তারা কৌশলে বাধা দেবেন। এটি আগেও হয়েছে। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নেতাকর্মীরা মনে করেছিলেন, দলের চেয়ারম্যান ১৭ বছর পর দেশে ফেরায় ওইসব সিন্ডিকেট তৎরতা বন্ধ হবে। তার কিছু হয়নি বলে প্রমাণ হচ্ছে।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক ফারুক হোসেন বলেন, সংগঠনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ছাত্রদলের অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। খুব শিগগির নতুন কমিটি ঘোষিত হবে বলে সংগঠনের প্রত্যেক নেতাকর্মী প্রত্যাশা করছেন।

বিএনপির একসময়ের শক্তিশালী অঙ্গসংগঠন যুবদল এখন অনেকটা ম্রিয়মাণ। ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের আগে ঘোষিত কমিটিতে আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং নুরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। চলতি বছরের ৪ জুন ১৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়া হয়। এর মধ্যে সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন বর্তমানে সংসদ সদস্য। আগের প্রভাবশালী এই সংগঠনকে গতিশীল করতে নতুন কমিটি গঠনের কোনো বিকল্প দেখছেন না তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

যুবদলের দায়িত্বশীল কোনো নেতা কমিটি পুনর্গঠন নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি হননি। তাদের অনেকে আগামী কমিটির পদপ্রত্যাশী। পদ প্রাপ্তিতে কোনো বাধা আসতে পারে বলে মন্তব্য করা থেকে বিরত থেকেছেন তারা। ২০২২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর এসএম জিলানীকে সভাপতি এবং রাজীব আহসানকে সাধারণ সম্পাদক করে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ তিন বছর। সে হিসাবে গত বছরের সেপ্টেম্বরে কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি। সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দুজনই সংসদ সদস্য।

স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহসভাপতি ইয়াছিন আলী বলেন, মেয়াদ শেষে কমিটি পুনর্গঠন একটা নিয়মিত সাংগঠনিক প্রক্রিয়া। এতে সংগঠন যেমন চাঙা থাকে তেমনি নেতাকর্মীরাও সক্রিয় থাকেন। কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এখন রাষ্ট্রক্ষমতায় বিএনপি। বিগত ফ্যাসিবাদ সরকারের অনেক জঞ্জালকে পরিষ্কার করে দেশকে এগিয়ে নিতে দলের শীর্ষ নেতারা ব্যস্ত সময় পার করছেন। আশা করছি, অচিরেই সাংগঠনিক কার্যক্রমও দ্রুত শুরু হবে।

২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে হাসান জাফির তুহিনকে সভাপতি এবং শহিদুল ইসলাম বাবুলকে সাধারণ সম্পাদক করে কৃষক দলের কমিটি গঠন করা হয়। তিন বছর মেয়াদি এই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে দুই বছর আগে। শহিদুল ইসলাম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। তুহিনও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করছেন।

২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে আফরোজা আব্বাসকে সভাপতি ও সুলতানা আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক করে মহিলা দলের কমিটি ঘোষণা করা হয়। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন বছর পরপর কাউন্সিল হওয়ার কথা থাকলেও ১০ বছর ধরে একই কমিটি দিয়ে চলছে। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে মুক্তিযোদ্ধা দলের কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে ইশতিয়াক আজিজ উলফাত সভাপতি ও সাদেক খান সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। এরপর এক যুগেরও বেশি অতিবাহিত হলেও নতুন কমিটি আর হয়নি।

২০১৪ সালের এপ্রিলে শ্রমিক দলের সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিলে আনোয়ার হোসাইন ও নূরুল ইসলাম খান নাসিমের নেতৃত্বে সংগঠনটির কমিটি গঠিত হয়। ২০১৬ সালে কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও নতুন করে আর কোনো কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়নি। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে রফিকুল ইসলাম মাহতাবকে আহ্বায়ক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক নেতা আব্দুর রহিমকে সদস্যসচিব করে মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। ২০২৪ সালের আগস্টে মারা যান রফিকুল ইসলাম। ওই বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর সংগঠনটির কমিটি বিলুপ্ত করা হলেও আর কোনো কমিটি হয়নি।