September 17, 2026, 11:52 pm
শিরোনাম:
কেশবপুর ১২২ জন ডেঙ্গু রোগ আক্রান্ত নেই মশা নিধনের কার্যক্রম সাগরদাঁড়িতে আনসার-ভিডিপির স্বেচ্ছাশ্রমে মশা নিধন কেশবপুরে গলায় ফাঁস দিয়ে এক মহিলার আত্মহত্যা দিঘলিয়ায় স্কুল বন্ধ নয়, কুকুরের ভয়ে সিঁড়ির গেটে তালা দিয়ে উপরে চলছে ক্লাস মথুরাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হলেন মো. রনি ইসলাম ডুমুরিয়ায় ভ্রাম্যমান আদালতে এক লক্ষ আট হাজার টাকা জরিমানা আদায় জবি ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ৩ শিক্ষার্থী সাংগঠনিক কিংবা রাজনৈতিক মাঠ পর্যায়ে গুছিয়ে উঠতে পারছে না বিএনপি ভয়ভীতি দেখিয়ে পদত্যাগ, দুই বছরেও স্বপদে ফিরতে পারেননি-অধ্যক্ষ অদ্রীস আনিসুল হকের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিচ্ছে দুদক

ডুমুরিয়ায় মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত, স্ত্রীর ওমরাহের জমানো টাকায় রাস্তায় ইট বিছালেন-হাফেজ ওয়াহিদুজ্জামান

Reporter Name

এস মেহেদী হাসান,ডুমুরিয়া প্রতিনিধি: পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে এক সিলাই কর্মী স্ত্রী পরম যত্নে ও কষ্টে কিছু টাকা জমিয়েছিলেন। কিন্তু অবহেলিত গ্রামবাসীর নিত্যদিনের সীমাহীন কষ্ট দেখে সেই জমানো টাকা দিয়েই মানুষের মুখে হাসি ফুটালেন স্বামী হাফেজ মো. ওয়াহিদুজ্জামান। খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার শরাফপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কেয়াখালী গ্রামের ৫৬ বছরের পুরোনো ও অবহেলিত ১৫০ ফুটের একটি কাদা-পানির রাস্তায় নিজস্ব অর্থায়নে ইটের সোলিংয়ের কাজ সম্পন্ন করে এলাকায় এক অভাবনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।

গত ২০ আগস্ট গ্রামবাসীকে সাথে নিয়ে নিজ উদ্যোগে এই সংস্কার কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করা হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বাধীনতার ৫৬ বছর পার হলেও কেয়াখালী গ্রামের এই সড়কটিতে কখনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। বর্ষা মৌসুম এলেই পথটি হাঁটু সমান কাদা ও পানিতে তলিয়ে থাকত। ফলে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ ও জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া সহ গ্রামের শত শত মানুষকে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বারবার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনো সমাধান মেলেনি।

গ্রামবাসীর এই দীর্ঘদিনের অবর্ণনীয় ভোগান্তি দেখে হাফেজ ওয়াহিদুজ্জামান তাঁর স্ত্রীর সাথে আলোচনা করেন। মহীয়সী স্ত্রীও বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে নিজের স্বপ্ন পূরণের চেয়ে জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দেন এবং ওমরাহ হজের জন্য জমানো সম্পূর্ণ অর্থ স্বামীর হাতে তুলে দেন। সেই অর্থ দিয়ে ইট ও বালু কিনে স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে নিয়ে হাফেজ ওয়াহিদুজ্জামান নিজেই সংস্কার কাজে নেমে পড়েন। উল্লেখ্য, হাফেজ মো. ওয়াহিদুজ্জামান কেবল এই সামাজিক কাজেই সীমাবদ্ধ নন। বৈশ্বিক মহামারি করোনাকালীন চরম সংকটের সময়েও তিনি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানবতার সেবায় এগিয়ে এসেছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে গঠিত বিশেষ ‘দাফন টিম’ খুলনা বিভাগ জুড়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করা প্রায় দুই শতাধিক মরদেহের দাফন ও সৎকার সম্পন্ন করে সর্বস্তরের মানুষের কাছে সমাদৃত হন।

নিজের সঞ্চিত অর্থে রাস্তা সংস্কারের বিষয়ে হাফেজ ওয়াহিদুজ্জামান আবেগপ্লুত কণ্ঠে জানান, মানুষের সেবা করাও ইবাদতেরই একটি অংশ। আমার স্ত্রীর পবিত্র ওমরাহ পালনের প্রবল ইচ্ছে ছিল, কিন্তু গ্রামের শত শত মানুষের প্রতিদিনের এই চরম কষ্ট দেখে মনে হলো—আগে এই দুর্ভোগ দূর করা জরুরি। আল্লাহ তাওফিক দিয়েছেন বলেই স্ত্রীর জমানো টাকায় কাজটি শেষ করতে পেরেছি। হাফেজ ওয়াহিদুজ্জামানের এই মানবিক ও নিঃস্বার্থ উদ্যোগে কেয়াখালী গ্রামে এখন আনন্দের জোয়ার বইছে। যুগের পর যুগ ধরে ভোগান্তিতে থাকা স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর এই ত্যাগের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন।