September 21, 2026, 11:23 am
শিরোনাম:
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ, চবি ছাত্রদল নেতাকে শোকজ বেকারত্ব দূর করতে কারিগরি ও প্রযুক্তি শিক্ষায় অধিক গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক দলগুলোর মেসির বিদায়ী ম্যাচে থাকবেন ডি মারিয়া চার দিনের রিমান্ডে এমপি গাজী নজরুল, প্রথম স্ত্রীর একদিন হিমাগারে পড়ে আছে আলু বাড়ছে লোকসানের বোঝা কেশবপুরে ১ম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত ডুমুরিয়ায় নিজ বাড়ির বারান্দায় যুবককে কুপিয়ে জখম কেশবপুর প্রেসক্লাব দখল ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ/ ৫ জন হাসপাতালে বান্দরবানে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকল্পের কাজ সন্তোষজনক: দুদক

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক দলগুলোর

Reporter Name

সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে লিটার প্রতি ২০ টাকা বৃদ্ধিতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো। অবিলম্বে বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন নেতারা। আজ সোমবার সমকালকে দেওয়া প্রতিক্রিয়া এবং পৃথক বিবৃতিতে দলগুলোর নেতারা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, জ্বালানির এই দাম বৃদ্ধির ফলে গাড়ি ভাড়া তথা পণ্য পরিবহন ও যাতায়াত খরচ বাড়বে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রতিটি জিনিসের দাম বাড়বে। ফলে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ, কৃষক, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণে বেড়ে গিয়ে তাদের দৈনন্দিন জীবন দুর্বিষহ করে তুলবে।

রোববার জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আজ সোমবার থেকে জ্বালানি তেলের নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। ডিজেলের দাম বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫, পেট্রোল ১৬০ ও অকটেন ১৬৫ টাকা লিটার করা হয়েছে। এটা দেশের ইতিহাসে জ্বালানি তেলের সর্বোচ্চ দাম। এর আগে ডিজেল ১১৫, কেরোসিন ১৩৫, পেট্রোল ১৪০ ও অকটেন ১৪৫ টাকা লিটারে বিক্রি হয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) দাবি, লোকসানের কারণে জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দর বাড়ায় আমদানি ব্যয়ও দ্রুত বেড়েছে। এতে লোকসানের কারণে এই দাম বাড়াতে হয়েছে। আর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর দাবি- তেলের দাম বাড়ানোর পরও সরকারকে প্রতি লিটারে ১৪ টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ সমকালকে বলেন, এমনিতেই গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানির সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত। দ্রব্যমূল্যে ঊর্ধ্বগতিতে জনসাধারণের নাভিশ্বাস উঠছে। সরকার এসব সমস্যার কোনো কার্যকর সমাধান করতে পারছে না। মুক্তবাজারের নিষ্ঠুর কষাঘাতে পিষ্ট সাধারণ মানুষের ওপর রাষ্ট্র আবারও চাপিয়ে দিল এক চরম জুলুমের বোঝা।

ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি এক লাফে ২০ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে কৃষি ও গণপরিবহনের চালিকাশক্তি ডিজেলের দাম ১৭.৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৫ টাকায়, যা সরাসরি সেচ ও উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে প্রান্তিক কৃষকদের খাদের কিনারায় ঠেলে দেবে। অন্যদিকে পেট্রোল ১৬০ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং গ্রামীণ মেহনতি মানুষের আলোর উৎস কেরোসিনের দাম ১৪.৮ শতাংশ বাড়িয়ে ১৫৫ টাকা করায় তাদের জীবনে তীব্র সংকট সৃষ্টি হবে।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, ‌‘যখন মূল্যস্ফীতির তীব্র চাপে মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে, তখন বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ না করে দাম বৃদ্ধি ও জনগণের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে সরকারের তথাকথিত লোকসান কমানোর এই নীতি সরাসরি আমজনতার পকেট কাটার সামিল। জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি- চাল, ডাল, সবজিসহ প্রতিটি মৌলিক পণ্যের দামের ওপর প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ প্রভাব ফেলবে যা সাধারণ শ্রমজীবী ও দরিদ্র মানুষের মুখের আহার কেড়ে নেবে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার পাঁচ মাসে তিনবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়াল যা সরকারের গণবিরোধী নীতির প্রকাশ। অবিলম্বে জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার; গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির সংকট নিরসন এবং দ্রব্যমূল্য জনগণের ক্রয়সীমার মধ্যে রাখার দাবি জানান তিনি।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদুল হাসান মানিক ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুর আহমদ বকুল পৃথক বিবৃতিতে ফের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা বলেন, ‘বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংকটময় পরিস্থিতিতে গৃহস্থালি, অফিস, কারখানা, কৃষি শিল্প, উৎপাদন পরিপূর্ণ হুমকির মধ্যে। ক্রমাগত মুদ্রাস্ফীতির কারণে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির লাগাম টানা যাচ্ছে না। সারাদেশে অস্থির পরিস্থিতি, মানুষ ক্রমাগত ক্রয়ক্ষমতা হারাচ্ছে। গরিবের সূচক মাত্রা বাড়ছে, এই পরিস্থিতিতে পুনরায় তেলের মূল্যবৃদ্ধি- বাজার থেকে উৎপাদন পর্যন্ত সর্বত্র নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’

এই নেতারা বলেন, ‘পরিবহন খরচ বেড়ে গেলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যমূল্যের দাম বেড়ে যাবে, সরবরাহ কমে যাবে। মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে। এ অসহনীয় পরিস্থিতি সাধারণ মানুষ সামাল দিতে পারবে না। সরকারের পক্ষে এখনও কোনো পরিপূর্ণ জ্বালানি নীতি ঘোষণা করা হয়নি। মার্কিন-বাংলাদেশ বাণিজ্যচুক্তির পর জ্বালানি ক্ষেত্রে একটা লুকোচুরি খেলা হচ্ছে। যখন যেমন তখন তেমন নীতিতে দেশপরিচালনার নীতি কখনও মঙ্গল বয়ে আনবে না। সরকারের উচিত হবে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি না করে অন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে বাজারসহ জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে সকল কিছু রাখা।’

বাসদের (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা বলেন, ‘বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটার প্রতি ২০ টাকা বাড়িয়ে মূল্যবৃদ্ধির চাপে পিষ্ট জনগণের কাঁধে আরও মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপালো। জ্বালানি তেলের বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধিতে সেচ খরচসহ কৃষকের উৎপাদন খরচ, শিল্পপণ্য, যাতায়াত, গৃহস্থালি খরচসহ সব পণ্যের দাম কয়েকগুণ বাড়বে।’

তিনি বলেন, ‘সরকার এমন সময় জ্বালানি তেলের দাম বাড়াল, যখন কয়েক বছর ধরে লাভে আছে বিপিসি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সব খরচ ও কর বাদ দিয়ে বিপিসি প্রায় ৪ হাজার ৩০০ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছে। বিপিসি গত ১১ বছরে প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকা লাভ করেছে। বছরে গড়ে লাভ সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা। এ সময়ে সংস্থাটি সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে সোয়া লাখ কোটি টাকার ওপরে।’

মাসুদ রানার প্রশ্ন- তবে এমন লাভের সুফল জনগণকে কেন দেওয়া হবে না?। তিনি বলেন, এই উদ্বৃত্ত অর্থ দিয়ে আপদকালীন জ্বালানি তহবিল গঠন করা হলে, সেখান থেকে ভর্তুকি দিলে বা ডিজেল আমদানির সময় সরকারের আরোপিত ৩১.৮৫ শতাংশ ভ্যাট-ট্যাক্স কিছুটা কমালে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হতো না।

তিনি বলেন, ‘আমরা দেখছি- বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের পরিকল্পনায় বিশাল বিশাল মেগাপ্রকল্প, নতুন পে-স্কেল ঘোষণা ইত্যাদিই গুরুত্ব পাচ্ছে, যার মাধ্যমে সরকারি ব্যয় বহুগুণ বাড়ছে অথচ জনগণকে মূল্যবৃদ্ধির কবল থেকে রক্ষার জন্য দীর্ঘমেয়াদি জনবান্ধব কোনো পরিকল্পনা দেখা যাচ্ছে না। জনগণের ওপর বিরাট মূল্যবৃদ্ধির বোঝা না চাপিয়ে সরকারি ব্যয় সমন্বয় করে স্বস্তি দেওয়া এ পরিস্থিতিতে সরকারের অন্যতম কর্তব্য হওয়া উচিত ছিল।’

মাসুদ রানার মতে, লাভে থাকার পরও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পরামর্শে সরকারি সেবা খাতে ভর্তুকি কমানোর নামে জ্বালানি তেলের এ মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত জনবিরোধী। অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের মতোই বর্তমান সরকার আইএমএফসহ সাম্রাজ্যবাদী সংস্থা, দেশি-বিদেশি পুঁজিপতিদের তোষণ করার নীতিতেই অর্থনীতি পরিচালনা করছে, যার সরাসরি ভুক্তভোগী হচ্ছে সীমিত আয়ের মানুষ। অবিলম্বে জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাই। জনগণকে এই মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাই।