কুষ্টিয়ার কুমারখালী রেলস্টেশনে ঢাকা-খুলনা রুটে চলাচলকারী আন্তঃনগর সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনের দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত যাত্রাবিরতি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। তিন বছর ধরে দফায় দফায় আন্দোলন ও স্থানীয়দের জোরালো দাবির মুখে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ১৩ মিনিটে ট্রেনটি দুই মিনিটের জন্য প্রথম যাত্রাবিরতি দেয়। এতে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে আনন্দ ও উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে।
স্টেশন চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, ট্রেনটির আগমন উপলক্ষে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ ফুলের মালা ও আতশবাজি নিয়ে ভিড় জমান। স্কাউট দলের ড্রামসেটের বাজনা ও তালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো স্টেশন এলাকা। উপস্থিত জনতার মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
কুমারখালী ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ রেজাউল ইসলাম জানান, যাত্রাবিরতি চালু হওয়ায় মাত্র তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টায় এখন ঢাকা যাতায়াত করা সম্ভব হবে। ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ব্যবসা-বাণিজ্যের নগরী কুমারখালীর মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জানা গেছে, ২০২৩ সালে কুমারখালীর সাংবাদিকদের উদ্যোগে প্রথম মানববন্ধনের মাধ্যমে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবি উত্থাপিত হয়। পরে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী সংগঠন মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। আন্দোলন বেগবান হওয়ার পর টানা চেষ্টার ফল হিসেবে রেল কর্তৃপক্ষ অবশেষে এই যাত্রাবিরতি মঞ্জুর করে।
কুমারখালী রেলস্টেশনের মাস্টার জাহিদুর রহমান জানান, সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি খুলনা থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে প্রতিদিন দুপুর ১টা ৩৭ মিনিটে এবং ঢাকা থেকে খুলনা যাওয়ার পথে বেলা ১১টা ২০ মিনিটে দুই মিনিটের জন্য কুমারখালী স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেবে।