মো: মিন্টু শেখ, স্টাফ রিপোর্টার : খুলনার রাস্তাঘাটের উন্নয়ন ও সংস্কার নিয়ে স্থানীয় জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ এবং অসন্তোষ রয়েছে। বিশেষ করে মহানগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বাইপাসগুলোর বেহাল দশা, ধীরগতির সংস্কার কাজ এবং জলাবদ্ধতার কারণে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।
এই প্রসঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের মূল ক্ষোভ ও দাবির দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
জানি না এই বার্তা আপনার পর্যন্ত পৌঁছাবে কিনা। আপনি খুলনায় আসছেন শুনে আমরা খুশি। কিন্তু আপনার আগমনকে কেন্দ্র করে খুলনায় যা ঘটছে, তা দেখে খুশির চেয়ে কষ্টই বেশি হচ্ছে। আপনি যে রাস্তা দিয়ে যাবেন, সেই রাস্তাগুলো গত দুই-তিন দিনে তড়িঘড়ি করে সংস্কার করা হয়েছে। নতুন পিচ, নতুন রঙ, ধুলো-ময়লা পরিষ্কার। গাড়িতে বসে আপনার মনে হবে, বাহ! খুলনার রাস্তা তো অনেক ভালো, অনেক উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু আপনি জানতেও পারবেন না, এই ভালো রাস্তার আড়ালে ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকার’ আসল গল্পটা কি।
এই একই রাস্তা, খুলনার প্রাণকেন্দ্রের এই রাস্তাটা গত কয়েক মাস ধরে ছিল চলাচলের অযোগ্য। বিশাল বিশাল গর্ত, কাদা-পানি, ভাঙাচোরা পিচ। এই জঘন্য রাস্তা দিয়েই প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেছে। চাকরিজীবীরা এই রাস্তা দিয়ে অফিসে গেছে, শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে গেছে, শ্রমিকেরা তাদের কর্মস্থলে গেছে, মুমূর্ষু রোগীকে এই ভাঙা রাস্তা দিয়েই হাসপাতালে নিতে হয়েছে, অ্যাম্বুলেন্স আটকে থেকেছে।
তখন কারো নজরে পড়েনি। কারো শুভবুদ্ধির উদয় হয়নি। জনদুর্ভোগের এই চিত্র কর্তৃপক্ষের চোখে পড়েনি। কিন্তু আপনি আসবেন শুনেই রাতারাতি সব সম্ভব হয়ে গেল! রাতারাতি রাস্তা ভালো হয়ে গেল! তার মানে কি দাঁড়ালো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী? চাইলেই তো আগে ভালো করা যেত। বাজেট ছিল, লোক ছিল, সামর্থ্য ছিল, শুধু সদিচ্ছা ছিল না।
আমরা ব্যথিত হই যখন দেখি, হাজার হাজার সাধারণ মানুষের কষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে না, কিন্তু একজন ভিআইপিকে দেখানোর জন্য, তেল মারার জন্য অসম্ভবকেও সম্ভব করে ফেলা হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার কাছে আমাদের অনুরোধ, এই সংস্কৃতির পরিবর্তন করুন। রাস্তা ভালো হোক আমাদের জন্য, প্রতিদিনের জন্য, শুধু আপনার আগমনের জন্য নয়। উন্নয়নটা যেন লোক দেখানো না হয়ে, জনগণের জন্য হয়। আপনি নির্দেশ দিন, যেন খুলনার কোনো রাস্তাই আর ভিআইপি আসার অপেক্ষায় পড়ে না থাকে।
বিনীত
খুলনার একজন সাধারণ নাগরিক
ডুমুরিয়া, খুলনা
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে তড়িঘড়ি সংস্কার”