মশার লার্ভা নিধনের জন্য নৌবাহিনী পরিচালিত নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড থেকে এক হাজার লিটার মশার ওষুধ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)। দরপত্র ছাড়া সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) ‘টেমিফস ৫০ ইসি’ নামের রাসায়নিক কীটনাশক (লার্ভিসাইড) কেনা হচ্ছিল প্রতি লিটার চার হাজার ৪০০ টাকা দরে। উন্মুক্ত বাজারে এই লার্ভিসাইড দুই হাজার ৮০০ থেকে তিন হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়।
বিষয়টি তুলে ধরে গত ২৭ অক্টোবর ‘দেড় গুণ দামে মশার ওষুধ, তিন গুণ বেশি স্প্রে’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। একই সঙ্গে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নিবন্ধিত বালাইনাশক (কীটনাশক) আমদানি ও প্রস্তুতকারকদের তালিকায় নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডের নাম নেই এই তথ্য তুলে ধরে কীটনাশক বিক্রি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
ওই দিনই জরুরিভিত্তিতে ক্রয়মূল্যে এক হাজার লিটার টেমিফস ৫০ ইসি (লার্ভিসাইড) সরবরাহ করতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে (ডিএনসিসি) চিঠি দেয় কেসিসি। গত ২৯ অক্টোবর কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে তিন হাজার ২৮৬ টাকা লিটার হিসেবে ৩২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা প্রশাসন, ডিএনসিসির অনুকূলে পরিশোধ করতে চিঠি দেন ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। গতকাল সোমবার ওই টাকা পরিশোধ করে ডিএনসিসি থেকে লার্ভিসাইড বুঝে পেয়েছে কেসিসি।
কেসিসি থেকে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ডকে দেওয়া কেসিসির চিঠিতে চার হাজার ৪০০ টাকা দরে এক হাজার লিটার লার্ভিসাইড সরবরাহ করতে বলা হয়েছিল। সেই হিসেবে এক হাজার লিটারের দাম পড়ত ৪৪ লাখ টাকা। অন্যদিকে ডিএনসিসির কাছ থেকে কেনা ওষুধের জন্য খরচ হচ্ছে ৩২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। এতে প্রথম চালানেই কেসিসির সাশ্রয় হচ্ছে ১১ লাখ ১৪ হাজার টাকা। পাশাপাশি উন্মুক্ত দরপত্রে আরও দুই হাজার লিটার লার্ভিসাইড কেনার প্রক্রিয়া চলছে। এতে দাম আরও কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কেসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান জানান, নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড মৌখিকভাবে কেসিসিকে মশার ওষুধ সরবরাহ করতে অপারগতা প্রকাশ করে। ওষুধ দ্রুত ফুরিয়ে আসায় ডিএনসিসিকে এক হাজার লিটার ওষুধ সরবরাহ করার অনুরোধ জানানো হয়। কেসিসির অনুরোধে সাড়া দিয়ে তারা এক হাজার লিটার ওষুধ কেসিসিকে সরবরাহ করছে। তাদের ক্রয়মূল্য কেসিসি পরিশোধ করছে।