September 19, 2026, 2:39 pm
শিরোনাম:
পশ্চিম শোভনা ইউরেকা ক্লাব ও ভায়না সবুজ সংঘের হাডুডু ম্যাচ অনুষ্ঠিত ডুমুরিয়ায় মাদকসহ বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার -৩ ক্রিসেন্ট আলিম মাদ্রাসা নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ: সংবাদ সম্মেলনে অধ্যক্ষের সংবাদ সম্মেলন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের নিখোঁজ ছেলের মরদেহ উদ্ধার ওসি রাশেদুল আলমের উদ্যোগে বদলে যাচ্ছে কয়রার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মেলায় যাওয়া নিয়ে অভিমান, গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে রহস্য কেশবপুরে সর্পদংশন সচেতনতা দিবস পালিত যশোর মুক্তেশ্বরী সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদের মাসিক সাহিত্য সভা ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ডুমুরিয়ার খর্নিয়ায় গণসংযোগ ও কুশল বিনিময় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী-শেখ শাহিনুর প্রতিবেশী ভারত-বাংলাদেশ সুসম্পর্কের জন্য যা করণীয়

ক্রিসেন্ট আলিম মাদ্রাসা নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ: সংবাদ সম্মেলনে অধ্যক্ষের সংবাদ সম্মেলন

Reporter Name

এস কে রবিউল ইসলাম, খুলনা : খুলনার খালিশপুর এলাকার ক্রিসেন্ট আলিম মাদ্রাসাকে ঘিরে সভাপতি, কয়েকজন শিক্ষক ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে নিয়োগে অনিয়ম, আর্থিক লেনদেন এবং প্রতিষ্ঠানভিত্তিক গ্রুপিংয়ের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. ইব্রাহিম। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে আনা বিভিন্ন অভিযোগকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে সেসব অভিযোগের প্রতিবাদও জানান তিনি। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবির বালু মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অধ্যক্ষ মো. ইব্রাহিম।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত ১৫ সেপ্টেম্বর মাদ্রাসার সভাপতি এস এম জাফর সাদিক কয়েকজন শিক্ষক ও সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে একই স্থানে সংবাদ সম্মেলন করে তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উত্থাপন করেন। ওই অভিযোগের জবাব এবং নিজের অবস্থান তুলে ধরতেই তিনি এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন। অধ্যক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৪ জানুয়ারি মাদ্রাসায় একজন ল্যাব সহকারী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হলে সভাপতি তার পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়ে বাছাই ও নিয়োগ কমিটি গঠন করেন। তিনি দাবি করেন, কমিটির কয়েকজন সদস্য বিভিন্ন প্রার্থীর সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে যোগাযোগ করেছিলেন এবং নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে অর্থ লেনদেনেরও চেষ্টা হয়েছিল।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, লিখিত পরীক্ষায় প্রথম হওয়া প্রার্থীকে বাদ দিয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকারীকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর প্রদানের মাধ্যমেও ফলাফল পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে কিছু নথিপত্র সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও জানান অধ্যক্ষ। মো. ইব্রাহিম বলেন, নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে কয়েকজন অভিভাবক সদস্য মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে অভিযোগ দেন এবং পরবর্তীতে কয়েকজন সদস্য পদত্যাগ করেন। তিনি দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড তদন্ত করেছে এবং তদন্ত প্রতিবেদনে বিভিন্ন অনিয়মের বিষয় উঠে এসেছে। এ প্রেক্ষিতে সভাপতিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়ম, দ্বৈত পরিচয়পত্র ব্যবহার, দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন-ভাতা গ্রহণ, আত্মীয়কে দায়িত্বে বসানোর চেষ্টা এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেন অধ্যক্ষ। তিনি বলেন, মাদ্রাসার আর্থিক হিসাব স্বচ্ছ এবং প্রয়োজন হলে যে কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষ তা যাচাই করতে পারে। তিনি আরও জানান, মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত হওয়ার সময় অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরির কারণে তিনি অবৈতনিক সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনের অনুমতি নিয়েছিলেন। অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও তিনি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যক্ষ মো. ইব্রাহিম তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, ক্রিসেন্ট আলিম মাদ্রাসাকে ঘিরে সভাপতি ও অধ্যক্ষ পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের বিষয়টি এখন আলোচনায় রয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ওপর নির্ভর করবে। প্রয়োজনে এটি টিভি সংবাদ স্ক্রিপ্ট, অনলাইন নিউজ বা পত্রিকার প্রতিবেদনের ফরম্যাটেও রূপান্তর করা যেতে পারে।