November 4, 2026, 12:36 pm
শিরোনাম:
কুটিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের নবীন বরণ অনুষ্ঠান কেশবপুরে সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম-এর ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত জানুয়ারিতে বাড়তি বেতন পাবেন পোশাকশ্রমিকরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, খুলনার রাস্তা কি শুধু আপনার জন্যই ভালো হবে প্রশ্ন জনগণের? ডুমুরিয়ায় গভীর রাতে অভিযান, পরিত্যক্ত অবস্থায় দেশীয় পাইপগান উদ্ধার পাইকগাছায় ওয়ারিশ সনদ নিয়ে বিরোধ গভীর রাতে রান্নাঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ কেশবপুরে জাতীয় দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন পত্রিকার প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন দাকোপে সুতারখালীতে রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ আশাশুনিতে সন্ত্রাসবিরোধী আইন মামলার আসামিসহ গ্রেপ্তার-৪ ড্যান্স একাডেমির আড়ালে কেয়া-শরিফুলের ব্ল্যাকমেলিং বাণিজ্য! নিঃস্ব অনেক ব্যবসায়ী

খুলনায় অবৈধ অস্ত্রের উৎস ৮ দিনে ৫ খুন প্রশ্নের মুখে প্রশাসন

Reporter Name

খুলনায় একের পর এক খুন, গুলি ও হামলার ঘটনায় নগর ও আশপাশের এলাকায় বাড়ছে আতঙ্ক। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে একাধিক সহিংস ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে অপরাধীরা কি ক্রমেই আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে?

সবশেষ বুধবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় নগরীর লবণচরা থানাধীন আশিবিঘা কালভার্ট এলাকায় প্রায় তিন ঘণ্টার ব্যবধানে গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত হন মঞ্জুরুল ইসলাম (২২) ও নাজমুল ইসলাম (১৮)। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে প্রথমে হামলার শিকার হন সেন্টারিং মিস্ত্রি মঞ্জুরুল। এর কিছুক্ষণ পর একই এলাকায় গুলিতে নিহত হন নাজমুল।

এর আগে ১১ আগস্ট রাতে রূপসার নৈহাটী ইউনিয়নে রূপসা ব্রিকস কার্যালয়ে গুলিতে নিহত হন ফখরুল ইসলাম (৩২)। এ ঘটনায় ইব্রাহিম কাটাপ্পা নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।১৫ আগস্ট রূপসার আইচগাতী ইউনিয়নের দুর্জনীমহল শহীদের মোড়ে জয় ঢালীকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে।১৮ আগস্ট রাতে রূপসার নৈহাটী প্রতিবন্ধী স্কুলের সামনে গুলিবিদ্ধ হন মামুন মীর (৩৫)। গুরুতর অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

একই দিন রায়েরমহল এলাকায় চার বছরের শিশু মিমকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে স্থানীয়দের গণপিটুনির শিকার হন রাজু (২৬)। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।পরপর এসব ঘটনায় নগর ও আশপাশের এলাকায় বাড়ছে উদ্বেগ। সন্ধ্যার পর অনেক এলাকাতেই সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হচ্ছে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি।

প্রশ্ন উঠছে প্রকাশ্যে অস্ত্রের ব্যবহার কি বেড়েছে? পূর্ববিরোধ, আধিপত্য বিস্তার কিংবা অপরাধীচক্রের দ্বন্দ্ব থেকেই কি এসব সহিংসতার জন্ম? আর হামলার পর জড়িতরা কীভাবে দ্রুত পালিয়ে যাচ্ছে?পুলিশ বলছে, প্রতিটি ঘটনার কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। লবণচরা থানার ওসি সৈয়দ মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, আশিবিঘা এলাকায় অল্প সময়ের ব্যবধানে দুই যুবক নিহত হয়েছেন। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

খুলনা সদর থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, নিহত দুই যুবকের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার এসব ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে খুলনাকে সন্ত্রাসের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা, বিশেষ বাহিনী মোতায়েন, সন্ত্রাসীদের তালিকা করে গ্রেপ্তার এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে বিচ্ছিন্ন অপরাধ হিসেবে দেখলে হয়তো পুরো চিত্রটি ধরা পড়বে না। কয়েক দিনের ব্যবধানে হত্যা, গুলি, ধারালো অস্ত্রের হামলা ও গণপিটুনির মতো একাধিক সহিংস ঘটনা নগরবাসীর নিরাপত্তাবোধকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

একটি হত্যাকাণ্ডের পর আরেকটি হত্যাকাণ্ড, একটি গুলির ঘটনার পর আরেকটি গুলি এভাবে সহিংসতা ধারাবাহিকতায় পরিণত হলে তা আর শুধু অপরাধের পরিসংখ্যান থাকে না; হয়ে ওঠে জননিরাপত্তার বড় সংকেত।

খুলনার মানুষের এখন প্রশ্ন, পরবর্তী গুলির শব্দ শোনার আগেই কি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসব সহিংসতার কারণ, অবৈধ অস্ত্রের উৎস এবং এর পেছনের শক্তিকে চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারবে? কারণ, শুধু মামলা ও গ্রেপ্তার নয় অপরাধের মূল উৎস বন্ধ করতে না পারলে আজকের আতঙ্কই হয়তো আগামী দিনের খুলনার নতুন বাস্তবতা হয়ে দাঁড়াবে।