November 4, 2026, 7:42 am
শিরোনাম:
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, খুলনার রাস্তা কি শুধু আপনার জন্যই ভালো হবে প্রশ্ন জনগণের? ডুমুরিয়ায় গভীর রাতে অভিযান, পরিত্যক্ত অবস্থায় দেশীয় পাইপগান উদ্ধার পাইকগাছায় ওয়ারিশ সনদ নিয়ে বিরোধ গভীর রাতে রান্নাঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ কেশবপুরে জাতীয় দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন পত্রিকার প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন দাকোপে সুতারখালীতে রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ আশাশুনিতে সন্ত্রাসবিরোধী আইন মামলার আসামিসহ গ্রেপ্তার-৪ ড্যান্স একাডেমির আড়ালে কেয়া-শরিফুলের ব্ল্যাকমেলিং বাণিজ্য! নিঃস্ব অনেক ব্যবসায়ী কম টাকায় ডিএনসিসি থেকে মশার ওষুধ আনছে কেসিসি রাজনৈতিক জীবনে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা সর্বনিম্ন পর্যায়ে: জরিপ ঢাকা-টাঙ্গাইল গাজীপুরে আগুন জ্বালিয়ে মহাসড়ক অবরোধ

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি: রেস্তোরাঁ খাত বাঁচাতে ৯ দফা দাবি মালিক সমিতির

Reporter Name

দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য ও কাঁচামালের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন খরচ বাড়ায় দেশের রেস্তোরাঁ খাত বর্তমানে চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এতে রেস্তোরাঁ ব্যাবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। এছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠান টিকে থাকার জন্য হিমশিম খাচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। শনিবার (৩ অক্টোবর) পুরানা পল্টনের ফার্স হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টসে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানানো হয়।

এ সময় লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, চাল, ডাল, তেল, মাংস, মাছ, মসলা, শাকসবজি ও ডিমসহ প্রায় সব খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি গ্যাস, বিদ্যুৎ, এলপিজি, পানি, ভাড়া, পরিবহন ও শ্রম ব্যয়ও বেড়েছে। অথচ অধিকাংশ রেস্তোরাঁ দ্রব্য মুল্যের ঊর্ধগতির সাথে সমন্বয় করে খাবারের দাম বাড়াতে পারছে না কারণ এতে গ্রাহক কমে যাচ্ছে। রেস্তোরাঁগুলোর সার্বিক বিক্রি এখন ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে।

তিনি বলেন, যে কারণে এখন ব্যবসায় ঠিকে থাকা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এ অবস্থায় রেস্তোরাঁ শিল্পের টেকসই বিকাশ, কর্মসংস্থান সংরক্ষণ এবং ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান নীতি, ব্যয় কাঠামো ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পুনর্বিবেচনা করা জরুরি।

দ্রব্যমূল্যের এ পরিস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির ৯ দফা দাবি তুলে ধরে। সেগুলো হলো:

১. রেস্তোরাঁ ব্যবসা পরিচালনায় ওয়ান স্টপ সার্ভিসের দ্রুত বাস্তবায়ন চাই।
২. দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মালিকদের দাম সমন্বয়ে জেলা প্রশাসনের অন্যায় হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।
৩. ভ্যাট আদায়ে সরকারি কর্মকর্তাদের হয়রানি অভিলম্বে বন্ধসহ সম্পূরক শুল্ক ১০% এবং উৎসে কর ২% সম্পূর্ন প্রত্যাহার করতে হবে।
৪. এলপিজি ও জ্বালানি সংকটের দ্রুত সমাধান এবং লোডশেডিং কমিয়ে আনতে হবে।
৫. বিভিন্ন দপ্তরের অভিযানের নামে রেস্তোরাঁ মালিকদের চরম হয়রানি ও অহেতুক আর্থিক জরিমানা বন্ধ করতে হবে।
৬. রেস্তোরাঁ খাতকে শিল্প ঘোষণার দ্রুত বাস্তবায়নসহ রেস্তোরাঁ খাতের জন্য সুনিদ্দিষ্ট শিল্প নীতি ঘোষনা এবং রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সদস্যপদ গ্রহন বাধ্যতামুলক তার বাস্তবায়ন করতে হবে।
৭. গরুর মাংস আমদানির অনুমতি দেয়ার দাবি।
৮. ব্যবসায়িদের বিভিন্ন দলের ট্যাগিং দিয়ে হয়রানি ও চাঁদাবাজি দ্রুত বন্ধ করে ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
৯. রেস্তোরাঁ সেক্টরে শ্রমিকদের প্রশিক্ষন, প্রণোদনা এবং রেস্তোরা শিল্পকে আর্ন্তজাতিক মানদন্ডে উন্নীত করার প্রস্তাব করছি।

এ সময় ইমরান হাসান বলেন, বর্তমানে একটি রেস্তোরাঁ পরিচালনার জন্য একাধিক দপ্তর থেকে ১০-১২টি অনুমোদন নিতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। ফলে ব্যবসা পরিচালনা এবং কার্যকর তদারকি উভয়ই বাধাগ্রস্ত হয়। তাই রেস্তোরাঁ খাতকে একটি সমন্বিত কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থার আওতায় এনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি একটি ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালুর প্রস্তাব করছি।

তিনি বলেন, পরিচালন ব্যয় ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। যে কারণে রেস্তোরাঁ মালিকদের খাদ্যপণ্যের মূল্য সমন্বয় করতে হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা বিবেচনায় না নিয়ে বিভিন্ন সময়ে মূল্য সমন্বয়ের কারণে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে রেস্তোরাঁ মালিকদের হয়রানি ও চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। কিন্তু রেস্তোরাঁ খাতে মূল্য সমন্বয়কে অপরাধ হিসেবে না দেখে বাস্তব ব্যয় কাঠামোর আলোকে যৌক্তিকভাবে মূল্য নির্ধারণের সুযোগ দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ভ্যাট আদায়ে সরকারি কর্মকর্তাদের হয়রানি বন্ধসহ সম্পূরক শুল্ক ১০% এবং উৎসে কর ২% সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা দরকার। এছাড়া ভ্যাট আদায়ের ক্ষেত্রে কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীর দ্বারা ব্যবসায়ী ও রেস্তোরাঁ মালিকদের অযথা হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাপ সৃষ্টি, অনৈতিক সুবিধা দাবি কিংবা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।

রেস্তোরাঁ খাতের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখতে এলপিজি ও অন্যান্য জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন রেস্তোরাঁ মালিকরা। ইমরান হাসান বলেন, এলপিজির সরবরাহ সংকট, মূল্যবৃদ্ধি ও বাজারে অস্থিতিশীলতার কারণে রেস্তোরাঁ পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় রেস্তোরাঁ মালিকদের দাবি, এলপিজির পর্যাপ্ত সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত এবং কত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত মূল্য আদায় বন্ধে কঠোর বাজার তদারকি করতে হবে। এছাড়া বিভিন্ন দপ্তরের অভিযানের নামে রেস্তোরাঁ মালিকদের চরম হয়রানি ও অহেতুক আর্থিক জরিমানা বন্ধ করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- সমিতির সভাপতি শাহ সুলতান খোকন, প্রথম যুগ্ম মহাসচিব মো. ফিরোজ আলম সুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক তৌফিকুর ইসলাম, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান বিপু প্রমুখ।