নুরুজ্জামান সাকিব : খুলনার পাইকগাছা উপজেলার দেলুটি ইউনিয়নের কুমারেশ বাওয়ালী টেকনিক্যাল এন্ড ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি দিবাকর বাওয়ালীর বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ।
অভিযোগে বলা হয়, ২০২০ সালে প্রয়াত শিক্ষানুরাগী কুমারেশ বাওয়ালীর নামে দেলুটির কালীনগর-দারুণমল্লিক এলাকায় প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন তার ছেলে দিবাকর বাওয়ালী। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করে প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের কোনো হিসাব না দিয়ে অর্থ লোপাট করে আসছেন। প্রতিষ্ঠানের কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মতামত না নিয়ে একক সিদ্ধান্তে সব কার্যক্রম পরিচালনা করছেন তিনি ।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অন্তত অর্ধশত শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীর কাছ থেকে ৬ থেকে ১০ লক্ষ টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছেন সভাপতি। এমপিওভুক্তির নামেও নেওয়া হয়েছে লাখ লাখ টাকা। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে নিয়োগপত্র বা যোগদানপত্র দেওয়া হয়নি। প্রতিবাদ করলে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
সর্বশেষ স্বেচ্ছাচারিতার শিকার হয়েছেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ দিবাকর সানা। এমপিওর নামে ২ লক্ষ টাকা দাবি করা হলে তিনি দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এরপর সাংগঠনিক কমিটিকে না জানিয়ে ২০২৫ সালে জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর হিসেবে নিয়োগ পাওয়া কয়রার বেদকাশীর পবন কুমার মন্ডলকে সহকারী সুপারিন্টেন্ডেন্ট হিসেবে একক সিদ্ধান্তে দায়িত্ব দেওয়া হয়। গত ২৩/৮/২০২৬ তারিখের এক পত্রে তাকে ২৪/৮/২০২৬ তারিখ থেকে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয় ।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের সাংগঠনিক সদস্যরা জানান, এ ব্যাপারে তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা সভা করা হয়নি। সরেজমিনে দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী সুপারিন্টেন্ডেন্ট পবন কুমার মন্ডলের কাছে শিক্ষক-কর্মচারীর তালিকা ও নিয়োগপত্র চাইলে তিনি তা দেখাতে পারেননি।
প্রতিষ্ঠানের ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট আফজালুর রহমান দাবি করেন, সভাপতির অনুমতিতেই সব কার্যক্রম চলে এবং নিয়মিত সভা হয়। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করেন, দেশের বাইরে থেকেও সভাপতির পক্ষে তার স্বাক্ষর জাল করে কাগজপত্র তৈরি করা হয়।
স্থানীয় কালীনগর ও দারুণমল্লিকের বাসিন্দা পল্লব গোলদার, তপন গোলদার, শ্যামল ঘোষ, অমিয় রায়সহ অনেকে বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দিবাকর বাওয়ালী চাকরির নামে টাকা লুটপাট, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে আসছেন। তারা অবিলম্বে এ বিষয়ে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।