November 2, 2026, 4:06 am

ডুমুরিয়ার খুটাখালী মৎস্য ঘের মালিক হারি না দেওয়ায় জমির মালিকদের প্রতিবাদ সভা

Reporter Name

ডুমুরিয়া প্রতিনিধি : ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের খুটাখালী বিলে মৎস্য ঘের মালিক জমির হারির টাকা পরিশোধ না করায় জমির মালিকরা এক প্রতিবাদ সভা করেছে। রোববার (২৫ অক্টোবর ২০২৬) সকালে উপজেলার কুলবাড়িয়া মৎস্য আড়তের সামনে আয়োজিত সভায় জমির মালিকরা তাদের পাওনা হারির টাকা আদায়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা করেন। এ সময় ঘের মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ ও বিষয়টি সমাধানের লক্ষ্যে সাত সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

জমির মালিকদের দেওয়া তথ্য সূত্রে জানা যায়, খুটাখালী মৎস্য প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬৫০ বিঘা জমি রয়েছে। এসব জমি লিজ নিয়ে মাছ চাষ করছেন চুকনগর এলাকার প্রয়াত চেয়ারম্যান সম আব্দুল কাইয়ুমের ছেলে মোঃ শাকিল আহম্মেদ। জমির মালিকদের অভিযোগ, চুক্তি অনুযায়ী প্রতি বছর বৈশাখ মাসে জমির হারির টাকা পরিশোধ করার কথা থাকলেও গত দুই বছর ধরে অনেক জমির মালিক তাদের পাওনা টাকা পাচ্ছেন না। এ নিয়ে তারা বিভিন্ন সময়ে ঘেরমালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেও সমস্যার সমাধান পাননি বলে দাবি করেন।

সভায় প্রায় ১৬০ জন জমির মালিকের মধ্যে ৮৪ জন উপস্থিত ছিলেন। সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা ও জমির মালিক সম সাইফুল কাদিরের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যদেন আটলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হেলাল উদ্দিন। বিশেষ বক্তা ছিলেন চুকনগর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি ও জমির মালিক আলহাজ্ব সাহিদুল ইসলাম। এছাড়া জমির মালিকদের পক্ষে বক্তব্য দেন শেখ আবু সাহামা, পরিমল গাইন, তপন বিশ্বাস, পঙ্কজ মন্ডল, বিষ্ণুপদ মন্ডল, রবীন্দ্র নাথ ঢালী প্রমুখ।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, আগামী সাত দিনের মধ্যে কমিটির সদস্যরা ঘের মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে জমির হারির টাকা পরিশোধের বিষয়ে আলোচনা করবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিষয়টির সমাধান না হলে ভবিষ্যতে মোঃ শাকিল আহম্মেদের সঙ্গে নতুন করে ঘেরের চুক্তি না করার হুঁশিয়ারি দেন জমির মালিকরা। পাশাপাশি, জমির হারির টাকা আদায় ও বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে সমাধানের জন্য ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) হস্তক্ষেপ কামনা করে লিখিত আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। সার্বিক বিষয়ে অভিযুক্ত ঘেরমালিক মোঃ

শাকিল আহম্মেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জমির মালিকদের আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, কিছু কিছু হারির টাকা বকেয়া আছে, তবে তারা যে মোটা অংকের টাকার কথা বলছে তা একেবারে মিথ্যা ও বানোয়াট। আমার পিতার সময় থেকে দীর্ঘদিন ধরে খুটাখালী ঘের হারি (লিজ) নিয়ে মৎস্য চাষ করে আসছি এবং সময়মত জমির মালিকদের সমুদয় টাকা পরিশোধ করে আসছি, কখনো কোনো সমস্যা হয়নি।