November 3, 2026, 8:09 am
শিরোনাম:
ড্যান্স একাডেমির আড়ালে কেয়া-শরিফুলের ব্ল্যাকমেলিং বাণিজ্য! নিঃস্ব অনেক ব্যবসায়ী কম টাকায় ডিএনসিসি থেকে মশার ওষুধ আনছে কেসিসি রাজনৈতিক জীবনে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা সর্বনিম্ন পর্যায়ে: জরিপ ঢাকা-টাঙ্গাইল গাজীপুরে আগুন জ্বালিয়ে মহাসড়ক অবরোধ স্থানীয় নির্বাচনে কাদের মনোনয়ন দেবে বিএনপি, জানালেন রিজভী নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী মিরপুরে শ্রমিক-পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ হুমায়ুন কবির পলাশ-এর পিতার দাফন সম্পন্ন আশাশুনিতে পুলিশের অভিযানে সন্ত্রাসবিরোধী পলাশসহ গ্রেফতার-৫ ডুমুরিয়ায় পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রকল্পে নারী কর্মী নিয়োগ সম্পন্ন

ড্যান্স একাডেমির আড়ালে কেয়া-শরিফুলের ব্ল্যাকমেলিং বাণিজ্য! নিঃস্ব অনেক ব্যবসায়ী

Reporter Name

খুলনা ব্যুরো, খুলনা : খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার রুদাঘরা এলাকা থেকে পরিচালিত একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের মূল হোতা শরিফুল ইসলাম এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেল ও অর্থ আদায় বাণিজ্যের চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। প্রেমের ফাঁদে ফেলে ও হোটেলে রাত্রিযাপনের সুযোগ নিয়ে তরুণীদের মাধ্যমে বিত্তশালীদের টার্গেট করে ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এই চক্রের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, এই চক্রের সাথে পুলিশের এক অসাধু সদস্যেরও যোগসাজশ রয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

​ঘটনার সূত্রপাত:
অনুসন্ধানে জানা যায়, ডুমুরিয়ার মিকশিমিল এলাকার বাসিন্দা কেয়া নামক এক তরুণী বিভিন্ন স্থানে ভাড়ায় নৃত্য ও ইভেন্টে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে রাত্রিযাপন করে থাকেন। একটি ড্যান্স একাডেমির কন্ট্রাক্টর শরিফুল ইসলামের সাথে তার গভীর সখ্যতা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই শরিফুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মেয়েদের নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট বা চক্র পরিচালনা করে আসছেন। ​এই চক্রের সুনির্দিষ্ট কৌশল হলো—বিত্তশালী ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে প্রথমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলা, পরবর্তীতে তাদের সাথে হোটেলে রাত্রিযাপন করা এবং এরপর বিয়ের জন্য অনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা।

টার্গেটকৃত ব্যক্তিরা রাজি না হলে তরুণীকে ব্যবহার করে তাৎক্ষণিকভাবে থানায় ধর্ষণ মামলা দায়েরের ভয় দেখানো হয়। পরবর্তীতে মামলা বা আইনি হয়রানির ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা নিয়ে বিষয়টি ‘রফাদফা’ বা মিমাংসা করে নেয় এই চক্র। ​(সম্প্রতি) এমনই একটি ঘটনায় এক তরুণী স্বেচ্ছায় এক যুবকের সাথে হোটেলে রাত্রীযাপন করার পর দিনই তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন—যা এই চক্রের পুরনো কৌশল বলে স্থানীয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

​পুলিশের এক সদস্যের জড়িত থাকার অভিযোগ:
স্থানীয় ও অনুসন্ধান সূত্র জানায়, এই পুরো ব্ল্যাকমেলিং ব্যবসার নেপথ্যে রয়েছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এই চক্রের সাথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক সদস্য সরাসরি জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মূলত তাদের প্রভাব ও ভয় দেখিয়েই ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক লাখ লাখ টাকা আদায় করা হয়।
​এলাকাবাসী ও সচেতন মহল এই চক্রের মূল হোতা শরিফুল ইসলাম, অভিযুক্ত তরুণী কেয়ামনি এবং তাদের সাথে জড়িত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় সাধারণ মানুষ ও উদীয়মান ব্যবসায়ীরা এভাবে প্রতিনিয়ত সর্বস্বান্ত হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।