আবেগে গা ভাসিও না, দুনিয়াটা অনেক কঠিন, বাস্তব। বাবার চোখে পানি দেখে বুঝতাছি, বাবার চোখে কখনও পানি দেখিনি, এবারই প্রথম দেখলাম তাও আবার আমার জন্য। আমার মত যারা আছে বা জুনিয়র যারা আছে তাদের বলবো আবেগে গা ভাসিও না, দুনিয়া অনেক কঠিন, এইটুকু তে কিছু না।
বিবেক খাটাও পড়াশোনা করো, ভবিষ্যতে উন্নতি করো, লাইফে একাও চলতে পারবা, কারো উপর ভরসা করতে হবে না। কথাগুলো বলছিলেন তাসফিয়া তাবাসসুম যে গতকাল গাজীপুর থেকে বরগুনার পাথরঘাটায় ঘরবাড়ী হীন চায়ের দোকানে কাজ করা এক হি/ন্দু ছেলেকে ভালোবেসে চলে এসেছিলো। সে আজ নিজের ভূল বুঝতে পেরেছে, সবার কাছে মাফ চাচ্ছে। বাবার চোখের জল তাবাসসুমকে সঠিক পথ দেখিয়েছে।
বাবার কান্না আর চোখের জলে নিজের হুঁশ ফিরে পেয়েছে তাবাসসুম। সে বুঝতে পেরেছে আবেগে আপ্লুত হয়ে সে এই পথে চলে এসেছে, সে কত বড় ভূল করেছে এবং তার উপলব্ধি হয়েছে জীবন এইটুকুই নয়। জীবনে এখনও অনেক পথ পাড়ি দেওয়া বাকি তার। জানা গেছে, তাবাসসুম এর বাবা একজন সিনেমা হল ব্যবসায়ী, তাদের সিনেমা হল আছে।কিছুদিন আগে একটি আড্ডা গ্রুপে হি/ন্দু ছেলে শুভর সাথে তাবাসসুমের পরিচয় হয়, নিয়মিত কথা বলতে বলতে একসময় তারা দুজনে প্রেমের সম্পর্কে গড়ার। বিষয়টি তার পিতা-মাতা বুঝতে পারলে তাকে এসব বন্ধ করতে চা/প প্রয়োগ করে তখন সে বাড়ি ছেড়ে গাজীপুর থেকে পাথরঘাটায় হি/ন্দু যুবক শুভর কাছে চলে আসে।
তাবাসসুম বরগুনার পাথরঘাটায় এসেছিলেন হি/ন্দু ছেলে শুভকে বি/য়ে করার জন্য। এরপর ঘটনাটি জানাজানি হলে সে বলে সে শুভর জন্য সবকিছু করতে রাজী এমনকি হি/ন্দু হতেও রাজী, একপর্যায়ে বাবাকে কল দিয়ে বলে বাবা, আমার শুভকে লাগবেই, তাকে ছাড়া বাঁ/চবে না।কিন্তু ঘটনার প্রায় ১২ ঘণ্টা পর শেষ পর্যন্ত নিজের ভূল বুঝতে পেরে বাবার সঙ্গেই ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
যাওয়ার সময় দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে তাবাসসুম বলেন, “আমার ভু/ল হয়েছে।” আর যেনো এমন ভূল কেউ না করে। তাবাসসুম এইবার এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ফাইভ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে এখন সে এ্যাডভোকেট হতে চায়। পারিবারিক বন্ধন মজবুত না হওয়া স/ন্তানদের সময় না দেওয়া ও সঠিক ধর্মীও শিক্ষার অভাবে এসব ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে,তাবাসসুম আজ তার মা বাবা ও বড় ভাই সাথে গাজীপুরে তার নিজের বাড়ীতে চলে যাচ্ছে।তাবাসসুম অল্পতেই তার ভুল বুঝতে পেরেছে এটা ভালো, বিষয়টি সুন্দর পরিসমাপ্তির জন্য পাথরঘাটার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ এবং থানা অফিসার প্রশংসার দাবিদার।